বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৭ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর-SSC ASSIGNMENT 2021 7TH WEEK
SSC History Assignment Answer 7th Week 2021-2022
💢💢💢ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ – শীর্ষক প্রবন্ধ।💥💥
ক. ভাষা আন্দোলনের পটভূমি বর্ণনা
খ. ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু, অন্যান্য নেতৃত্ব এবং নারীদের ভূমিকা নিরূপণ
গ. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং পূর্ববাংলার স্বাধিকার আন্দোলনে (৫২ – ৭১) ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ
ঘ. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি অর্জন (পটভূমি ও তাৎপর্য।
এসএসসি 2021 বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৭ম সপ্তাহ
উত্তরঃ
ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ
💢ভাষা আন্দোলনের পটভূমিঃ
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। ভাষা, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিকপরিবেশ, খাদ্যাভ্যাসসহ সকল ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্বেও কেবল ধর্মের ভিত্তিতে এক হাজারমাইলের ব্যবধানে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তকরে এই অসম রাষ্ট্র গড়ে তোলা হয়। এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবেবেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে। অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানেরভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা,২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। এরথেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে।
অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ব বঙ্গের জনসংখ্যা ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতিমাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পাকিস্তান সৃষ্টির ছ’মাস পেরুতে না পেরুতে তারা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে নামে যা ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় পর্বের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করে।
ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুঃ
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলেও প্রকৃতপক্ষে এ আন্দোলনের বীজ রােপিত হয় আরও আগে। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। যেখানে কথা বলার সুযােগ রাখা হয় কেবল উর্দু এবং ইংরেজিতে। কিন্তু তার এ যৌক্তিক দাবির সরাসরি বিরােধিতা করলেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন, গণপরিষদের সহসভাপতি মৌলভী তমিজউদ্দিন খান প্রমুখ।
তারা উদ্দুকে রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগ নেতাদের ষড়যন্ত্র, প্রতিবাদ, আন্দোলন-সংগঠন এবং এতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ নিজের ভূমিকার প্রেক্ষাপট প্রাঞ্জল ভাষায় বর্ণনা করেন শেখ মুজিবুর রহমান তার লেখনীতে- এই সময় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ তমদ্দুন মজলিশ যুক্তভাবে স্বদলীয় সভা আহ্বান করে একটা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করলাে।
সিক্রেট ডক্যুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ড.শামসুজ্জামান খান লিখেছেন- ৪ মার্চ ১৯৪৮ সাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম স্টুডেন্ট লীগের অস্থায়ী সাংগঠনিক কমিটির পক্ষে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি সংবলিত এক লিফলেটে স্বাক্ষর করেন। এবং ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে এবং সচিবালয়ে ছাত্র বিক্ষোভে নেতৃত্বে দিয়ে তিনিসহ কয়েক ছাত্র গ্রেপ্তার হন।
ভাষা আন্দোলনে অন্যান্য নেতৃত্বঃ
তথ্যমতে, বাংলা ভাষা আন্দোলন সবত্র ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সমঝােতার উপায় খুঁজতে থাকে। ফলে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ও সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে কামরুদ্দিন আহমদ একটি চুক্তিতে উপনীত হন। ১৫ মার্চ সই করা চুক্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, পুলিশি নির্যাতনের তদন্ত, সংবাদপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার ছাড়াও বাংলা ভাষার মর্যাদা সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলা ভাষা আন্দোলনে নারীঃ
বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক ম্যাদা বহুবছর ধরে সংগ্রাম আর পুরুষের পাশাপাশি লড়াইযের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবির আন্দোলনে সহযােদ্ধা হয়ে ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ছাত্রীরা। পাকিস্তান আমি ও পুলিশের তাক করা বন্দুকের নলকে উপেক্ষা করে ভাষার দাবির মিছিলগুলােতে ছিলেন তারা সামনের কাতারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাতে লুকিয়ে ভাষার দাবির বিভিন্ন ক্লোগান সংবলিত পােস্টার এঁকেছেন।
তমুদ্দন মজলিসে নারীঃ
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে বাংলাভাষার দাবিকে চাঙ্গা করতে গঠিত হয় তমদ্দুন মজলিস। ১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারি রাত ৪টার দিকে আবুল কাশেমের বাসা ঘিরে ফেলে পাকিস্তান পুলিশ। আবুল কাশেমসহ অন্যরা বাড়ীর পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিগুলাে এগিয়ে নিতে নারীরা শুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং পূর্ব বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনে
প্রথমতঃ ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিত গণ আন্দোলন। এই বাঙডালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই ষাটের দশকে স্বৈরশাসন বিরােধী ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে আন্দোলনে প্রেরণা জোগায়।
দ্বিতীয়তঃ ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে।
তৃতীয়তঃ ভাষা আন্দোলনে মুসলিম লীগ জনগণের মানসিকতা ও স্বার্থ উপেক্ষা করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দলটির শােচনীয়ভাবে পরাজয় ঘটে। এর পর আর নির্বাচনে মুসলিম লীগ জয়ী হয়নি।
চতুর্থতঃ ১৯৫৪ সালের যুক্ত্রন্টের নি্বাচনী প্রতিশ্রুতি মােতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শােক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহিদ দিবস ঘােষণা করে। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে।
পঞ্চমতঃ যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য তুলে ধরে, যাষাটের দশকে আওয়ামী লীগের ছয় দফায় পরিস্কটিত হয়। স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় যার প্রেরণা ছিল ভাষা আন্দোলন।
ষষ্ঠতঃ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিকায়নঃ
পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বাঙালির মতাে অন্য কোনাে জাতি পাওয়া যাবে না। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে এ দেশীয় কিছু বিশ্বাসঘাতকের ষড়যন্ত্রে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন হয়। সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশরা উপমহাদেশে ১৯০ বছর শাসন করে। বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর প্রস্তাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য ১৮৮টি দেশ সমর্থন করে এবং ২০০০ রাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলাে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে।
২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে। পরিশেষে, আগামী ১০০ বছরে প্রায় ৩ হাজার ভাষা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্তমানে পৃথিবীতে আট হাজারেরও অধিক ভাষা প্রচলিত আছে। তবে হাজারাে ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষা পৃথিবীতে অত্যন্ত ম্যাদার আনেই আছে। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা ভাষার অবস্থান পৃথিবীতে এখন সপ্তম। প্রায় ৩০ কোর্টি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। সারা পৃথিবীতেই বাংলা ভাষার ব্যবহার উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
>>>সমাপ্তি<<<
🔊স্বীকারোক্তিঃ
এখানে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে।সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং একথাও উল্লেখ যে এখান থেকে প্রাপ্ত কোন ভুল তথ্যের জন্য আমরা কোনভাবেই দায়ী নই এবং আপনার নিকট দৃশ্যমান ভুলটি আমাদেরকে নিম্নোক্ত মেইল -এর মাধ্যমে অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ই-মেইলঃ compact1521@gmail.com অথবা এইখানে ক্লিক করুন।


No comments