বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৮ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর-SSC ASSIGNMENT 2021 8TH WEEK
নিচে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন এবং তার উত্তর নিচে দেওয়া হল।

নির্দেশনা (সংকেত/পরিধি/ ধাপ)
- আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও এর বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন আন্দোলনের উল্লেখ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগােষ্ঠীর বিভিন্ন বৈষম্যের প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা;
- ছয় দফার প্রতিক্রিয়া (ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা ও গণঅভ্যুত্থান);
- উপযুক্ত স্বাধিকার আন্দোলনসমূহ কীভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলে তার বিশ্লেষণ।
সামরিক শাসন বিরােধী আন্দোলন:
পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যঃ
রাজনৈতিক বৈষম্যঃ
প্রশাসনিক বৈষম্যঃ
সামরিক বৈষম্যঃ
অর্থনৈতিক বৈষম্যঃ
শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যঃ
সামাজিক বৈষম্যঃ
সাংস্কৃতিক বৈষম্যঃ
ছয় দফা আন্দোলনঃ
ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহােরে অনুষ্ঠিত বিরােধী রাজনৈতিক দলগুলাের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য- পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র, ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়। বাংলাদেশের জন্য এই আন্দোলন এতােই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদও বলা হয়।
দাবিসমূহঃ
১: শাসনতান্ত্রিক কাঠামাে ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি: লাহাের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভােটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে।
২: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা: কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কশ।
৩ : মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা: মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারেঃ-(ক) সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যােগ্য মুদ্রা চালু থাকবে।
(খ) বর্তমান নিয়মে। সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।
৪: রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা: ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়ােজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গরাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। কেন্দ্রীয় । শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশনিয়ে অঙ্গরাষ্ট্রগুলির সবরকমের করের
৫: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:
(খ) বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।
(গ) কেন্দ্রের জন্য প্রয়ােজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিই মিটাবে।
(ঘ) অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন রকম বাধা-নিষেধ থাকবে না।
(ঙ) শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্বস্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।
৬ : আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।
আগরতলা মামলাঃ
১৯৬৮ সালের প্রথম দিকে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৩৫ বাঙালি সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে; যা ইতিহাসে ‘আগরতলা মামলা’ বা ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সুপরিচিত। সরকারি নথিতে অবশ্য এর নাম ভিন্ন ছিল। এর নাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য মামলা। সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে করা এই মামলা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্য স্বাধীনতাকামী বাঙালি অফিসারদের শায়েস্তা করার জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মামলাই হয়ে উঠে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পথের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এর পথ ধরেই আসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। আর বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেন ‘বঙ্গবন্ধু’। মামলায় অভিযােগ আনা হয়েছিল, শেখ মুজিবুর রহমানসহ এই কর্মকর্তারা ভারতে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এতে শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করা হয় এবং তাঁকে এই ষড়যন্ত্রের মূলহােতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বস্তুত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি দায়ের করার সময় শেখ মুজিবুর রহমান অন্য একটি মামলায় আটক ছিলেন।

No comments