ভূগোল ও পরিবেশ দ্বিতীয় সপ্তাহের উত্তর SSC ASSIGNMENT 2021 2ND WEEK
সূর্যকে পরিভ্রমণকালে পৃথিবীর ৪টি অবস্থায় বাংলাদেশে বিরাজমান ঋতু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন।
ঋতু পরিবর্তনের কারণ :
পৃথিবীতে আলাে ও তাপ এর উৎস হল সূর্য। ভূপৃষ্ঠে সারাবছর সূর্যরশ্মি সমানভাবে পড়ে না। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি ও তীর্যকভাবে পতিত সূর্য রশ্মির কারণে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে সারা বছর ধরে উষ্ণতা হ্রাস বৃদ্ধি দেখা যায়। উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে বছরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি ভাগ কে ঋতু বলে৷ ঋতুর পর্যায় ক্রমিক পরিবর্তন কে ঋতু পরিবর্তন বলে।
ঋতু পরিবর্তনের ৫টি কারণ সম্পর্কে নিম্নে আলােচনা করা হলঃ
(১) পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিবা-রাত্রির তারতম্যের জন্য উত্তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি : পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সূর্য পৃথিবীর যে গােলার্ধের নিকট অবস্থান করে তখন সেই গােলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছােট। তার বিপরীত গােলার্ধে রাত বড়, দিন ছােট। পৃথিবী দিনের বেলায় তাপ গ্রহণ করে,ফলে ভুপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং রাতের বেলায় বিকিরণ করে শীতল হয়।
তখন একটি স্থানে বড় দিনে ভূপৃষ্ঠ যে তাপ গ্রহণ করে ছােট রাতে সে তাপ পুরােটা বিকিরণ করতে পারে না। ঐ স্থানে সঞ্চিত তাপের কারণে আবহাওয়া উষ্ণ হয় এবং তাতে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয়। বিপরীত গােলার্ধে রাত বড় এবং দিন ছােট হওয়াতে দিনের বেলায় যে তাপ গ্রহণ করে রাতের বেলায় সব তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা অনুভূত হয় তখন শীতকাল।
(২) পৃথিবীর গােলাকার আকৃতি : পৃথিবী গােল, তাই পৃথিবীর কোথাও সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে। ফলে তাপ মাত্রার পার্থক্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তিত হয়।
(৩) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: পৃথিবীর আবর্তন পথ উপবৃত্তাকার তাই বছরের বিভিন্ন সময় সূর্য থেকে পৃথিবীর। দূরত্ব কম-বেশি হয়। এতে তাপ মাত্রার পার্থক্য হয়, তাই ঋতু পরিবর্তিত হয়।
(৪) পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান : সূর্যকে পরিক্রমণের সময় নিজ কক্ষ তলের সঙ্গে পৃথিবীর মেরুরেখা সমকোণে না থেকে ৬৬.৫° কোণে হেলে একই দিকে অবস্থান করে। এতে বছরে একবার পৃথিবীর উত্তর মেরু ও সূর্যরশ্মি খাড়াভাবে দক্ষিণ মেরু সূর্যের নিকটবতী হয়৷ যে গােলার্ধ যখন সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে সে গােলার্ধে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। তার তাপমাত্র তথন বেশি হয় এবং দূরে গেলে তাপমাত্রা কম হয়, ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
(৫) বার্ষিক গতির কারণে ঃ পৃথিবীর বার্ষিক গতির জন্য সূর্যকিরণ বিভিন্ন স্থানে কমবেশি পড়ার কারণে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটছে ৷ ফলে বিভিন্ন জলবায়ুর বিভিন্ন পরির্বতন দেখা যায়। একে ঋতু পরিবর্তন বলে ।
ঋতু পরিবর্তনে পৃথিবীর চারটি অবস্থাঃ
বার্ষিক গতির জন্য সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পতিত হয় এবং দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থান থেকে ঋতু পরিবর্তনের ব্যাখ্যা নিচের চিত্র হতে পাওয়া যায়।
![]() |
| চিত্রটি পেন্সিল দিয়ে আঁকতে হবে |
উত্তর গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শীতকাল :
২১শে জুন সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ দিন। এই দিন সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে পতিত হয়। ফলে ঐ দিন এখানে দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়৷২১শে জুনের দেড় মাম পূর্ব থেকে দেড় মাস পর পর্যন্ত মােট তিন মাস উত্তর গােলার্ধেউত্তাপ বেশি থাকে। এ সময় উত্তর গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল। এ সময়ে সূর্যের তির্যক কিরণের জন্য দক্ষিণ গােলার্ধে দিন ছােট ও রাত বড় হয়। এজন্য সেখানে তখন শীতকাল।
উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে বসন্তকাল :
২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে পড়ে এবং সর্বত্র দিবা-রাত্রি সমান হয়। সেজন্য এ তারিখের দেড় মাস পূর্ব থেকে দেড় মাস পর পর্যন্ত মােট তিন মাস তাপমাত্রা মধ্যম ধরনের হয়ে থাকে। এ সময় উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে বসন্তকাল।
উত্তর গােলার্ধে শীতকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল :
২২শে ডিসেম্বর সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষদিন অর্থাৎ এই দিন সূর্য মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে সেখানে দিন বড় ও রাত ছােট হয়। এ তারিখের দেড় মাস পূর্বেও পরে দক্ষিণ গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গােলার্ধে শীতকাল থাকে।
উত্তর গােলার্ধে বসন্তকাল ওদক্ষিণ গােলার্ধে শরৎকাল :
২১শে মার্চ তারিখে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে। এই দিন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। ২১শে মার্চের দেড় মাস পূর্ব থেকে। দেড় মাস পর পর্যন্ত এই তিন মাস উত্তর গােলার্ধেমন্তকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শরৎকাল থাকে।
ঋতু পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর চারটি অবস্থায় বাংলাদেশে বিরাজমান ঋতুর ব্যাখ্যাঃ
বাংলাদেশ ভৌগােলিক ভাবে উত্তর গােলার্ধে অবস্থিত। এখন ঋতু পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর চারটি অবস্থায় বাংলাদে বিরাজমান ঋতুর ব্যাখ্যা করা হলাে
উত্তর গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শীতকাল :
বাংলাদেশ উত্তর গােলার্ধে হওয়ায় ২১শে জুন এখানে দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়। এই ২১শে জুনের আগের দেড় মাম মে-জুন হওয়ায় বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল থাকে কারণ মে থেকে মধ্যজুন এদেশে গ্রীষ্মকাল এবং পরের দেড় মাস জুন জুলাই হওয়ায় বর্ষকাল থাকে কারণ মধ্য জুন হতে জুলাই এদেশে বর্ষাকাল।
উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধেবসন্তকাল :
২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে পড়ে এবং সর্বত্র দিবা-রাত্রি সমান হয়। এ তারিখের দেড় মাস পূর্ব অর্থাৎ আগষ্ট সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে বর্ষাকাল ও শরৎকাল বিরাজ করে কারণ আগষ্ট ও মধ্য সেপ্টেম্বর মাসে দেশে বর্ষকাল ও শরৎকাল থাকে এছাড়াও পরের দেড় মাস অর্থাৎ মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে শরৎকাল ও হেমন্তকাল বিরাজ করে কারণ মধ্য সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বাংলাদেশে শরৎ ও হেমন্ত কাল।
উত্তর গােলার্ধে শীতকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল :
২২শে ডিসেম্বর দুই গােলার্ধে দিন-রাত সমান হয়। এ তারিখের দেড় মাস পূর্ব অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বরে দেশে হেমন্তকাল ও শীতকাল বিরাজ করে কারণ নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর এদেশে হেমন্তকাল ও বসন্তকাল। এবং পরেরও দেড়মাস অর্থাৎ মধ্য ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে তীব্র শীতকাল দেখা যায় কারণ মধ্য ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী এদেশে শীতকাল।
উত্তর গােলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শরৎকাল :
২১শে মার্চ তারিখে উত্তর ও দক্ষিণ দুই গােলার্ধেই দিন-রাত সমান হয় । এ তারিখের দেড় মাস পূর্ব অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী থেকে মধ্য মার্চে বাংলাদেশে শীতকাল ও বসন্তকাল বিরাজ করে কারণ ফেব্রুয়ারী থেকে মধ্যমার্চ এদেশে শীত ও বসন্তকাল। এবং পরের দেড় মাস অর্থাৎ মধ্য মার্চ থেকে এপ্রিলে দেশে পুরােপুরি বসন্তকাল বিরাজ করে কারণ মার্চ-এপ্রিল এদেশে বসন্তকাল।
প্রতিবেদকের নাম : ...........................
শ্রেণি : .............
শাখা : ...........
শিপট : ..........
...............................উচ্চ বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার।
🔊স্বীকারোক্তিঃ এখানে উপস্থাপিত সকল তথ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা। যেহেতু কোন মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয় সেহেতু আমাদেরও কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল থাকতে পারে।সে সকল ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং একথাও উল্লেখ যে এখান থেকে প্রাপ্ত কোন ভুল তথ্যের জন্য আমরা কোনভাবেই দায়ী নই এবং আপনার নিকট দৃশ্যমান ভুলটি আমাদেরকে নিম্নোক্ত মেইল -এর মাধ্যমে অবহিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ই-মেইলঃ compact1521@gmail.com অথবা এইখানে ক্লিক করুন।



No comments